ক্ষমতার লড়াইয়ে ফুলে ফেপে উঠেছে দস্যুরা,
এই পৃথিবীর কোনো এক ভৌগলিক অবস্থানে।
তাদের নির্মম অত্যাচারে আতংকিত শিশুর আর্তনাদ,
নিজেকে রক্ষার তাগিদে সদ্য জন্ম নেয়া শিশু জেনে গেছে
এই দস্যুদের করা নরকীয় ধ্বংসযজ্ঞ-
ঠেকিয়ে তাদের প্রতি সৃষ্ঠ ঘৃণার প্রতিবাদ।
পৃথিবীর বুকে নরকের সড়কে পড়ে আছে লাশের সমাহার,
আর কোমল শিশুর হাতে পঁচে যাওয়া ফুলের হাতিয়ার,
যারা ফুলের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিল শান্তি
প্রতিবাদে তারা পেয়েছে কেবল মিসাইল-
বোমা বর্ষনের আর বুলেট বর্শার উপহার।
যে ঘরে একদিন বাবা মেয়েকে কোলে নিয়ে
স্নেহের ছায়াতলে কান্না থামাচ্ছিলো,
আজ মর্টারের গোলায় ধ্বংস ঘরে
মেয়ের কান্না থেমে গেলো।
যারা তাদের বজ্রকন্ঠে আঘাত হানতো
আজকের তথাকথিত শাষক নামক দস্যুদের উপর,
কোথায় সেই সব মহাপুরুষ?
মহাপুরুষরা কি আজ হারিয়ে গেছে আর-
তাদের উত্তরাধীকারী হিসেবে জন্ম নিয়েছে
আজকের নিরব সমাজের কাপুরুষ।
কোথায় গেলো সব সন্নাসী?
নাকি সন্নাসী রুপে আজ সব রাক্ষসী,
যাদের কাছে প্রেম হায়নার দাঁতের ভালোবাসার মতো ধারালো-
যারা ভালোবেসে শিশুর প্রাণ নেয় দাঁতে তুলে,
যাদের দস্যুতায় পৃথিবীর ভূমি কম্পিত হচ্ছে
বিস্ফোরণ আর আতঙ্কে।
আর দস্যুরা নিজেদের অপরাধ লোকাতে
নিশ্চিত করে আমাদের মৃত্যুদন্ড,
তাদের প্রতি ঘৃণার প্রতিবাদে
নিজেকে ফাঁসিতে ঝোলাতে রাজি আছি।
তবু ধরণী তাদের চিনে রাখুক
ঠিক যেমনটি আজও চিনে রেখেছে
ফেরাউন থেকে চেঙ্গিস খানকে,
তেমন ঘৃণার সাথে তাদের নাম লেখা থাকুক
ইতিহাসের ঘৃণার পাতায়।
মানব যখন জন্ম নিয়েছিলো তখন কি নিয়ে এসেছিলো সে
তাহলে কিভাবে দাবি করতে পারে পৃথিবী?
অথচ বোকাদের জানা নেই
পৃথিবীর তুচ্ছ ধূলিকণাও তাদের নয়।
কি নিয়ে যাবে সে-
যখন তার নিজের অস্তিত্বটুকু হারিয়ে যাবে মহাশুন্যে?
যা কিছু সে কেড়ে নিয়েছিলো বল প্রয়োগ করে
আদতে কিছুকে সে নিজের বলে দাবি করতে পারে?
যত কিছু দাবি করেছিলো নিজের বলে,
কিছু কি পৃথিবী থেকে নিতে পেরেছিলো সে?
মরার পর তাদের জন্য কে অপেক্ষা করবে
আজকের ক্ষমতা, অট্টালিকা নাকি বিলিয়ন ডলার।
তাদের থাকবে না আর কোনো অস্তিত্ব
অপেক্ষায় থাকবে কীটপতঙ্গ,
এইভাবে বিনাশ হবে আজকের ক্ষমতার।
একটি শিশুর হাসি ফিরিয়ে দিতে পারবে কি দস্যুরা?
নাকি তাদের সীমাবদ্ধতা কেবল বুলেটের বর্শা।
তাদের জানা নেই আমাদের কবি চন্ডীদাশের কবিতা-
সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।
আমরা তা ভুলে গিয়ে ওইসব শিশুদের কংকালের ঝোল,
দস্যুদের ক্ষমতায় নত হয়ে নিশ্চিন্তে খাই।